fbpx

Honda Life

Honda X-Blade Review

HONDA X-BLADE -এর ১০,০০০ কি.মি. REVIEW!!

দেখতে দেখতে আমার HONDA X-BLADE ১০ হাজার কিলোমিটার পূর্ণ হল।২০১৯ এর ডিসেম্বরের শেষ দিকে আমি বাইকটি কিনি। তখন এক্সব্লেড সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। শোরুমে যাওয়ার আগে প্ল্যান ছিল নীল রঙের হর্নেট কিনব। HONDA LIFE বারিধারাতে পৌঁছে দেখি নীল হর্নেট স্টক আউট, সাতদিন লাগবে আসতে। পকেটে টাকা নিয়ে বাইকের জন্য অপেক্ষা করার মতো যন্ত্রণা আর কিছু নেই। সাতদিনের কথা শুনে সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে এমন অনুভূতি হল আমার। সিদ্ধান্ত নিলাম অপেক্ষা করব না, হোন্ডা কোম্পানির ১৫০ সিসি বাইক যেটা এভেইলেবল আছে সেটাই কিনে ফেলব। তখন কিনলাম HONDA X-BLADE আজ আমি আমার HONDA X-BLADE এর Review আপনাদের সাথে শেয়ার করব। তার আগে আমি আমার বাইকিং লাইফে আসার গল্প শেয়ার করব।

বাইকিং লাইফে আসার গল্পঃ

আমি বাইক চালানো শিখি ২০১০ সালে, তখন আমি স্কুলে পড়ি। আমার দুই মামার বাইক ছিল। তাদের একজন রাইড করতেন Bajaj CT 100 এবং অন্যজন Hero Splendor। এই দুইটি বাইক দিয়েই আমার বাইক রাইডের হাতেখড়ি হয়। হাতেখড়ি হওয়ার পর থেকে বাইকে ঘোরাঘুরির শখটা প্রবল হয়ে ওঠে । ২০১৩ সালে Hero Splendor দিয়ে জীবনের প্রথম হাইওয়ে লং ট্যুর দেই। তখন আমি থাকতাম নেত্রকোনা। পাশের দুই জেলার ওপারে শেরপুর। সেখানের গজনী ইকো পার্কের কথা অনেক শুনেছিলাম। আসা-যাওয়ায় ২৮০ কিলোমিটারের কিছু বেশি ছিল ট্যুরটা। এরপর HONDA X-BLADE কেনার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো ১৪০/১৬০ কিলোমিটারের ট্যুরে বহুবার গিয়েছি। আমার কাছে বাইক মানে স্বাধীনতা, বাইক মানে অনিশ্চয়তা। হাইওয়েতে ১২০ কিলোমিটার স্পিডে ক্রুজিং করার সময় আপনি অনুভব করবেন স্বাধীনতা বলতে আসলে কী বোঝায়! আবার আমাদের দেশের রাস্তার অবস্থা সাপেক্ষে নির্দ্বিধায় বলা যায়, আমাদের হাইওয়ে গুলো সেভাবে সেফ নয়। তবে হাইওয়ের এই স্বাধীনতা আমি ভীষণ ভালোবাসি। হাইওয়েতে স্পিড তুললে যে এড্রেনালিন রাশ হয় তা আমার ভীষণ প্রিয়। তবে সাবধানতা অবলম্বন করাও জরুরী।

Honda X-Blade এর Review:

HONDA X-BLADE নিয়ে আমার প্রথম ট্যুর ঢাকা থেকে নেত্রকোনা ।পড়াশোনা ও চাকরিসূত্রে আমি ঢাকায় থাকি। HONDA X-BLADE কেনার ঠিক ৫ দিন পর ঢাকা থেকে চালিয়ে এলাম নেত্রকোনা।ওডোমিটারে তখনও ১০০ কিলো পূর্ণ হয় নি। হাইওয়েতে চালানোর কারণে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেক-ইন পিরিয়ড মানতে পারি নি। আর পরে ঢাকার ভেতরে চালানোর সময়ও ব্রেক ইন মেইনটেইন করি নি। অনেকে বলে ব্রেক ইন আরপিএম মেইনটেইন না করলে পরে মাইলেজ কমে যাওয়াসহ অনেক সমস্যা হয় কিন্তু আমার HONDA X-BLADE- এর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা এখনো হয় নি। প্রথম ইঞ্জিন ওয়েল ড্রেইন দিই ৩০০ কিলোমিটারে। তখন থেকেই মটুলের ফুল সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করছি। এক্সব্লেডের জন্য কোম্পানি রেকমেন্ডেড অয়েল গ্রেড ১০ডব্লিউ৩০ হলেও দেশে ফুল সিনথেটিকগুলোতে এই গ্রেড পাওয়া যায় না। তাই আমি ১০ডব্লিউ৪০ গ্রেড ব্যবহার করেছি এবং করছি। এভাবে ১০ হাজার কিলোমিটার পার করার পরও কোনো সমস্যা হয় নি।

Honda X-Blade- বাইকটির মাইলেজ নিয়ে কিছু কথাঃ

মাইলেজের ব্যাপারে আসি। একবার মাইলেজ টেস্ট করার জন্য আরপিএম মেইনটেইন করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার আরপিএমে চালিয়েছিলাম কয়েক দিন। তখন প্রতি লিটারে মাইলেজ পেয়েছি সর্বনিম্ন ৪৬ থেকে ৫২ পর্যন্ত। তবে সাধারণত আমি ৭/৭.৫ হাজার আরপিএমের নিচে চালাই না তাই আমি ৩৮ থেকে ৪২ মাইলেজ পাই। পরে পারফরম্যান্স আপগ্রেডের জন্য আফটার মার্কেট প্লাগ, কেবল ও কয়েল লাগালেও মাইলেজ ৩৮ এর নিচে নামে নি। এক্সব্লেডের ব্রেকিং এই সেগমেন্টে ওয়ান অব দ্যা বেস্ট বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে তবে আরও ভালো হতে পারত। চাকা চিকন হওয়া কোনো ভ্যালিড নেগেটিভ ইস্যু বলে আমার মনে হয় নি। আর কমফোর্ট লেভেলও চমৎকার। গত সেপ্টেম্বরে আমি আমার HONDA X-BLADE বাইকটি নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। তখন ট্রাফিক জনিত কারণে একটানা প্রায় ১৫ ঘন্টা বাইক চালাতে হয়। তবুও ব্যাকপেইন বা এই ধরনের কোনো ব্যথা অনুভূত হয় নি। আমার বিশ্বাস করি এই বাজেটে HONDA X-BLADE এর চাইতে ভালো বাইক বাংলাদেশে আর পাওয়া যাবে না।

Honda X-Blade- বাইকটীর পাওয়ার লস ইস্যুঃ

অনেকে নাকি HONDA X-BLADE-এ পাওয়ার লস পেয়েছেন। আমি কখনো পাই নি। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, ঢাকা-ফুডভিলেজ-ঢাকা, ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-ঢাকা সহ ইত্যাদি অনেকগুলো লং ট্যুরে আমি গিয়েছি। আমার এই দশ হাজার কিলোর মধ্যে সম্ভবত সাত হাজার কিলোই চালিয়েছি হাইওয়েতে। কোনোবারই মনে হয় নি ইঞ্জিন ওভারহিট হচ্ছে অথবা পাওয়ার লস হচ্ছে। আমি কয়েকবার একটানা ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা টপস্পিডে চালিয়েছি। তাতেও কোনো সমস্যা হয় নি।পাওয়ার লস ইস্যু হাই আরপিএম মেইনটেইনের কারণে হয়নি নাকি সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের কারণে তা আমি জানিনা। অন্য কোনো কারণও হয়তো থাকতে পারে।

Honda X-Blade- এর ব্যাটারী ইস্যুঃ

ব্যাটারির প্রসঙ্গে আসি। আমার বাইকের ব্যাটারি অসাধারণ সাপোর্ট দিচ্ছে। HONDA X-BLADE-এর স্টক সিঙ্গেল হর্ন পছন্দ না হওয়ায় পালসারের ডাবল হর্ন লাগাই। এটাও হাইওয়েতে যথেষ্ট মনে না হওয়ায় একজোড়া হাইড্রোলিক পপ হর্ন লাগাই। এখন ঐ ডাবল হর্ন ও পপ হর্ন সবই একসাথে ব্যবহার করছি। এছাড়া একজোড়া এ৭ ফগলাইটও লাগিয়েছি। ব্যাটারিতে এখনো কোনো প্রবলেম হয় নি। অবশ্য এগুলার প্রত্যেকটার সাথেই আলাদা রিলে লাগানো আছে। ফার্স্ট সার্ভিস করিয়েছিলাম ৩০০ কিলোর মাথায়। সেখানে স্পেফিসিক ভাবে গিয়ার লিভার খুলে গ্রিজ দেয়াই, এছাড়া আর কোনো সমস্যা ছিল না। এরপর আরও দুইটি সার্ভিস HONDA LIFE বারিধারাতে থেকে করিয়েছি। এই দশ হাজার কিলোর যাত্রায় ইতোমধ্যে রেগুলার মেইনটেইন্সের অংশ হিসেবে এয়ার ফিল্টার, ফ্রন্ট ব্রেক প্যাড ও বল রেসার একবার করে চেঞ্জ করাতে হয়েছে। এর বাইরে সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহে এনজিকে ইরিডিয়াম প্লাগ, রেসিং কেবল ও রেসিং কয়েল লাগিয়েছি। রেসিং সিডিয়াই অর্ডার দিয়েছি, হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। সব মিলিয়ে এক্সব্লেড চালিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

এই ছিল আমার HONDA X-BLADE বাইকটির ১০০০০+ কিলোমিটারের রিভিউ। ধন্যবাদ বাংলাদেশ হোণ্ডা প্রাইভেট লিমিটেড-কে এমন একটি কোয়ালিটি বাইক ডিজাইন করার জন্যে।

Share Now on Facebook:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *